Posts

Showing posts from April, 2018

আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে

আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে দেখতে আমি পাইনি তোমায় দেখতে আমি পাইনি বাহির পানে চোখ মেলেছি  বাহির পানে আমার হৃদয় পানে  চাইনি আমার।। আমার সকল ভালোবাসায় সকল আঘাত, সকল আশায় তুমি ছিলে আমার কাছে  তুমি ছিলে আমি তোমার কাছে যাইনি।। তুমি মোর আনন্দ হয়ে ছিলে আমার খেলায় আনন্দে তাই ভুলে ছিলেম কেটেছে দিন হেলায়। গোপন রহি গভীর প্রানে আমার দুঃখ সুখের গানে সুর দিয়েছ তুমি, আমি তোমার গান তো গাই নি।।

মায়বন বিহারিনী হরিণী

মায়বন বিহারিনী হরিণী গহন স্বপন সঞ্চারিনী কেন তারে ধরিবারে করি পণ অকারণ মায়াবন বিহারিনী।। থাক থাক নিজ মনে দূরেতে আমি শুধু বাসরীর সুরেতে পরশ করিব ওর তন মন অকারণ মায়াবন বিহারিনী।। চমকিবে ফাগুনেরো পবনে বসিবে আকাশবাণী শ্রবনে চমকিবে ফাগুনেরো পবনে চিত্ত আগুনে হবে অনুভব অকারণ। দূর হতে আমি তারে সাধিব গোপনে বিরহ ডোরে বাধিব বাধনবিহীন সেই যে বাঁধন অকারণ মায়াবন বিহারিনী।।

ডাকব না ডাকব না

ডাকব না ডাকব না অমন করে বাইরে থেকে ডাকব না পারি যদি – অন্তরে তার ডাক পাঠাব আনব ডেকে না না না ডাকব না ডাকব না এমন করে বাইরে থেকে দেবার ব্যথা বাজে আমার বুকের তলে নেবার মানুষ জানিনে তো কোথায় চলে ।। এ দেওয়া নেওয়ার মিলন আমার ঘটাবে কে না না না ডাকব না ডাকব না এমন করে বাইরে থেকে ডাকব না মিলবে নাকি মোর বেদনা তার বেদনাতে গঙ্গা ধারা মিশবে নাকি কালো যমুনাতে ।। আপনি কি সুর উঠল বেজে আপনা হতে এসেছে যে ।। গেল যখন আশার বচন গেছে রেখে না না না ডাকব না ডাকব না এমন করে বাইরে থেকে ডাকব না পারি যদি – অন্তরে তার ডাক পাঠাব আনব ডেকে না না না ডাকব না ডাকব না এমন করে বাইরে থেকে

বধু কোন আলো লাগলো চোখে

Cm বঁধু কোন আলো লাগলো চোখে বুঝি দীপ্তি রূপে ছিলে সুর্যলোকে।। ছিল মন তোমারই প্রতীক্ষা করি যুগে যুগে দিন রাত্রি ধরি ছিল মর্ম বেদনা ঘন অন্ধকারে জনম জনম গেল বিরহ শোকে বধু কোন আলো লাগলো চোখে । অস্ফুট মঞ্জরি কুঞ্জ বনে সংগীত শুন্য বিষন্ন মনে সংগী রিক্ত চীর দুঃখ রাতি পোহাব কি নির্জনে শয়ন পাতে।। সুন্দর হে সুন্দর হে বর মাল্যখানি তব আন বহে তুমি আন বহে অবগুন্ঠনে ছায়া ঘুচায়ে দিয়ে হের লজ্জিত স্মিতমুখ শুভ আলোকে বঁধু কোন আলো লাগলো চোখে ।।

সখি বহে গেল বেলা

সখি বহে গেল বেলা, শুধু হাসি খেলা একি আর ভাললাগে। আকুল তিয়াস, প্রেমের পিয়াস প্রাণে কেন নাহি জাগে। কবে আর হবে থাকিতে জীবন আঁখিতে আঁখিতে মদির মিলন – মধুর হুতাসে মধুর দহন নিতি-নব আনুরাগে ।। তরল কোমল নয়নের জল নয়নে উঠিবে ভাসি , সে বিষাদনীরে ণিবে যাবে ধীরে প্রখর চপল হাসি উদাস নিঃশ্বাস আকুলি উঠিবে আশা নিরাশায় পরাণ টুটিবে- মরমের আলো কপোলে ফুটিবে শরম অরুণরাগে ।।

এসো হে বৈশাখ

A# এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ তাপসনিশ্বাসবায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে, বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক।। যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে যাওয়া গীতি, অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক।। মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা। রসের আবেশরাশি শুষ্ক করি দাও আসি, আনো আনো আনো তব প্রলয়ের শাঁখ মায়ার কুজ্ঝটিজাল যাক দূরে যাক।

আকাশভরা সূর্য-তারা

আকাশভরা সূর্য-তারা, বিশ্বভরা প্রাণ তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান।। অসীম কালের যে হিল্লোলে জোয়ার-ভাঁটার ভুবন দোলে নাড়ীতে মোর রক্তধারায় লেগেছে তার টান বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান।। ঘাসে ঘাসে পা ফেলেছি বনের পথে যেতে ফুলের গন্ধে চমক লেগে উঠেছে মন মেতে ছড়িয়ে আছে আনন্দেরই দান বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান।। কান পেতেছি, চোখ মেলেছি, ধরার বুকে প্রাণ ঢেলেছি জানার মাঝে অজানারে করেছি সন্ধান বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান।।

তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা

তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা, এ সমুদ্রে আর কভু হব নাকো পথহারা।। যেথা আমি যাই নাকো তুমি প্রকাশিত থাকো। আকুল নয়নজলে ঢালো গো কিরণধারা।। তব মুখ সদা মনে জাগিতেছে সংগোপনে তিলেক অন্তর হলে না হেরি কূল-কিনারা।। কখনো বিপথে যদি ভ্রমিতে চাহে এ হৃদি অমনি ও মুখ হেরি শরমে সে হয় সারা।।

অলি বার বার ফিরে যায়

অলি বার বার ফিরে যায় অলি বার বার ফিরে আসে।। তবে তো ফুল বিকাশে অলি বার বার ফিরে যায় কলি ফুটিতে চাহে ফোটে না মরে লাজে মরে ত্রাসে।। ভুলি মান অপমান, দাও মন প্রাণ, নিশি দিন রহো পাশে। ওগো, আশা ছেড়ে তবু আশা রেখে দাও, হৃদয়রতন-আশে।। ফিরে এসো ফিরে এসো বন মোদিত ফুলবাসে। আজি বিরহ রজনী ফুল্ল কুসুম শিশিরসলিলে ভাসে।।

আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে

আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে তাই হেরি তায় সকল খানে।। আছে সে নয়নতারায় আলোক ধারায় তাই না হারায় ওগো তাই দেখি তায় যেথায় সেথায় তাকাই আমি যে দিক পানে।। আমি তার মুখের কথা শুনবো বলে গেলাম কোথা। শোনা হল না হলো না আজ ফিরে এসে নিজের দেশে এই যে শুনি, শুনি তাহার বানী আপন গানে।। কে তোরা খুজিস তারে কাঙ্গাল বেশে দারে দারে। দেখা মেলে না মেলে না তোরা আয়রে দেয়ে দেখরে চেয়ে আমার বুকে ওরে দেখরে আমার দুই নয়নে।।

আজ জ্যোৎস্নারাতে

আজ জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে বসন্তের এই মাতাল সমীরণে।। যাব না গো যাব না যে, রইনু পড়ে ঘরের মাঝে এই নিরালায় রব আপন কোণে। যাব না এই মাতাল সমীরণে।। আমার এ ঘর বহু যতন ক’রে ধুতে হবে মুছতে হবে মোরে। আমারে যে জাগতে হবে, কী জানি সে আসবে কবে যদি আমায় পড়ে তাহার মনে বসন্তের এই মাতাল সমীরণে।।

আগুনের পরশমণি

আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে এ জীবন পুণ্য করো দহন-দানে। আমার এই দেহখানি তুলে ধরো তোমার ওই দেবালয়ের প্রদীপ করো নিশিদিন আলোক-শিখা জ্বলুক গানে। আঁধারের গায়ে গায়ে পরশ তব সারারাত ফোটাক তারা নব নব। নয়নের দৃষ্টি হতে ঘুচবে কালো, যেখানে পড়বে সেথায় দেখবে আলো ব্যথা মোর উঠবে জ্বলে ঊধর্ব-পানে।।

পাগলা হাওয়ার বাদল-দিনে

পাগলা হাওয়ার বাদল-দিনে পাগল আমার মন জেগে ওঠে।। চেনাশোনার কোন্‌ বাইরে যেখানে পথ নাই নাই রে সেখানে অকারণে যায় ছুটে।। ঘরের মুখে আর কি রে কোনো দিন সে যাবে ফিরে। যাবে না, যাবে না– দেয়াল যত সব গেল টুটে।। বৃষ্টি-নেশা-ভরা সন্ধ্যাবেলা কোন্‌ বলরামের আমি চেলা, আমার স্বপ্ন ঘিরে নাচে মাতাল জুটে– যত মাতাল জুটে। যা না চাইবার তাই আজি চাই গো, যা না পাইবার তাই কোথা পাই গো। পাব না, পাব না, মরি অসম্ভবের পায়ে মাথা কুটে।।

ভালোবাসি ভালোবাসি

ভালোবাসি ভালোবাসি এই সুরে কাছে দূরে জলে স্থলে বাজায় বাজায় বাঁশি ভালোবাসি ভালোবাসি আকাশে কার বুকের মাঝে ব্যথা বাজে দিগন্তে কার কালো আঁখি আঁখির জলে যায় ভাসি ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি সেই সূরে সাগর কূলে বাঁধন খুলে অতল রোদন উঠে দুলে সেই সূরে সাগর কূলে বাঁধন খুলে অতল রোদন উঠে দুলে সেই সুরে বাজে মনে অকারনে ভুলে যাওয়া গানের বাণী ভোলা দিনের কাঁদন কাঁদন হাসি ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি!! এই সুরে কাছে দূরে জলে স্থলে বাজায় বাজায় বাঁশি ভালোবাসি ভালোবাসি …

যখন পড়বে না মোর

যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে, আমি বাইব না মোর খেয়াতরী এই ঘাটে, চুকিয়ে দেব বেচা কেনা, মিটিয়ে দেব গো, মিটিয়ে দেব লেনাদেনা, বন্ধ হবে আনাগোনা এই হাটে- তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে, তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে যখন জমবে ধূলা তানপুরাটার তারগুলায়, কাঁটালতা উঠবে ঘরের দ্বারগুলায়, আহা, ফুলের বাগান ঘন ঘাসের পরবে সজ্জা বনবাসের, শ্যাওলা এসে ঘিরবে দিঘির ধারগুলায়- তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে, তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে তখন এমনি করেই বাজবে বাঁশি এই নাটে, কাটবে দিন কাটবে, কাটবে গো দিন আজও যেমন দিন কাটে, আহা, ঘাটে ঘাটে খেয়ার তরী এমনি সে দিন উঠবে ভরি- চরবে গরু খেলবে রাখাল ওই মাঠে. তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে, তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে তখন কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি. সকল খেলায় করবে খেলা এই আমি – আহা, নতুন নামে ডাকবে মোরে, বাধবে নতুন বাহু-ডোরে, আসব যাব চিরদিনের সেই আমি. তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে, তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে ।।

আমার পরাণ যাহা চায়

আমার পরাণ যাহা চায় তুমি তাই তুমি তাই গো। তোমা ছাড়া আর এ জগতে মোর কেহ নাই, কিছু নাই গো।। তুমি সুখ যদি নাহি পাও যাও, সুখের সন্ধানে যাও আমি তোমারে পেয়েছি হৃদয়মাঝে আর কিছু নাহি চাই গো।। আমি তোমার বিরহে রহিব বিলীন তোমাতে করিব বাস দীর্ঘ দিবস, দীর্ঘ রজনী দীর্ঘ বরষ মাস। যদি আর-কারে ভালোবাস যদি আর ফিরে নাহি আস তবে তুমি যাহা চাও তাই যেন পাও আমি যত দুখ পাই গো।।

আমার এই পথ চাওয়াতেই আনন্দ

আমার এই পথ চাওয়াতেই আনন্দ খেলে যায় রৌদ্র ছায়া, বর্ষা আসে বসন্ত।। কারা এই সমুখ দিয়ে আসে যায় খবর নিয়ে খুশি রই আপন মনে- বাতাস বহে সুমন্দ।। সারাদিন আঁখি মেলে দুয়ারে রব একা শুভখন হঠাৎ এলে তখনি পাব দেখা। ততখন ক্ষণে ক্ষণে হাসি গাই আপন-মনে ততখন রহি রহি ভেসে আসে সুগন্ধ।।

তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম

B তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম নিবিড় নিভৃত পূর্ণিমানিশীথিনী-সম।। মম জীবন যৌবন মম অখিল ভুবন তুমি ভরিবে গৌরবে নিশীথিনী-সম।। জাগিবে একাকী তব করুণ আঁখি, তব অঞ্চলছায়া মোরে রহিবে ঢাকি। মম দুঃখবেদন মম সফল স্বপন তুমি ভরিবে সৌরভে নিশীথিনী-সম।।

এই লভিনু সঙ্গ তব

এই লভিনু সঙ্গ তব, সুন্দর, হে সুন্দর। পুণ্য হল অঙ্গ মম, ধন্য হল অন্তর, সুন্দর, হে সুন্দর। আলোকে মোর চক্ষু দুটি মুগ্ধ হয়ে উঠল ফুটি, হৃদ্‌গগনে পবন হল সৌরভেতে মন্থর, সুন্দর, হে সুন্দর। এই তোমারি পরশরাগে চিত্ত হল রঞ্জিত, এই তোমারি মিলন-সুধা রইল প্রাণে সঞ্চিত। তোমার মাঝে এমনি ক’রে নবীন করি লও যে মোরে, এই জনমে ঘটালে মোর জন্ম-জন্মান্তর, সুন্দর, হে সুন্দর।

মেঘের কোলে রোদ হেসেছে

মেঘের কোলে রোদ হেসেছে, বাদল গেছে টুটি। আহা, হাহা, হা। আজ আমাদের ছুটি ও ভাই, আজ আমাদের ছুটি। আহা, হাহা, হা।। কী করি আজ ভেবে না পাই, পথ হারিয়ে কোন্‌ বনে যাই, কোন্‌ মাঠে যে ছুটে বেড়াই সকল ছেলে জুটি। আহা, হাহা, হা।। কেয়া-পাতার নৌকো গড়ে সাজিয়ে দেব ফুলে– তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব, চলবে দুলে দুলে। রাখাল ছেলের সঙ্গে ধেনু চরাব আজ বাজিয়ে বেণু, মাখব গায়ে ফুলের রেণু চাঁপার বনে লুটি। আহা, হাহা, হা।।

ওকে ধরিলে তো ধরা দেবে না-

ওকে ধরিলে তো ধরা দেবে না- ওকে দাও ছেড়ে দাও ছেড়ে। মন নাই যদি দিল নাই দিল, মন নেয় যদি নিক্‌ কেড়ে ।। এ কী খেলা মোরা খেলেছি, শুধু নয়নের জল ফেলেছি- ওরই জয় যদি হয় জয় হোক্‌ মোরা হারি যদি যাই হেরে ।। এক দিন মিছে আদরে মনে গরব সোহাগ না ধরে, শেষে দিন না ফুরাতে ফুরাতে সব গরব দিয়েছে সেরে। ভেবেছিনু ওকে চিনেছি, বুঝি বিনা পণে ওকে কিনেছি- ও যে আমাদেরই কিনে নিয়েছে, ও যে তাই আসে, তাই ফেরে ।।